Sunday, March 29, 2020

অাম্মু_অামি_একটু_রুমেল_চাচার_বাড়ি_যাচ্ছি - অনিক চৌধুরী


পাশের বাড়ির রুমেল চাচার দুটো ছেলে বড়টা নিন্দ্য ছোটটা কাব্য।
মাঝে মাঝে গান শেখাতে যেতাম ওই ছোট কাব্য কে বড়টা অাবার একটু বিদ্যাসাগর টাইপের সে এসবের মধ্যে নেই। ছোট মিয়া অাবার বাচ্ছু গুরুর বেশ ভক্ত..! তার পড়ার টেবিল তার সারা রুম জুড়ে শুধু গুরুর ছবি অার ছবি। তার শখ সেও একদিন রূপালী গিটারে সুর তুলবে।তবে অাগে থেকে বলে রাখা ভালো অত্র এলাকা জুড়ে এমন জিনিস শুধু রুমেল চাচার ঘরেই অাছে।সমগ্র এলাকার মানুষ তারে নিয়া ভীষন চিন্তায় থাকে।একবার তো চাচার নাম করে থানায় ফোন করে রিতিমতো বাড়িতে পুলিশ হাজির করে ফেলেছিলো। অাচ্ছা কাজের কথায় অাসি,
তো অাজ বৃহস্পতিবার অর্ধেক সময়ে মহাশয়ার স্কুলেও ছুটির ঘন্টা শুনাবে সেই সুবাদে অামি রুমেল চাচার বাড়ি গিয়ে অাগে থেকেই উপস্থিত। চাচার ছোট ছেলেটার দিকে তাকালেই কেমন যেনো একটা আলু আলু ভাব আসে মনে। আজ দেখি দেখতে কেমন যেনো একটা ডিম ডিম ভাব চলে এসেছে আর চেহারা হয়েছে অনেকটা নতুন আলুর মত, হালকা চামড়া উঠা উঠা।

আমি বললাম কিরে কি হয়েছে, কে এই সর্বনাশ করল তোর!
কাব্য পুরাই নাছোড়বান্দা, কিছুতেই স্বীকার করে না কি হয়েছে। অনেক কিছুর লোভ দেখানোর পর বলল, আজ যখন স্কুলে টিফিনের বিরতিতে সব বন্ধুরা খেলছিলামম, তখন নাকি কোন ক্লাসমেট কাব্যর ক্লাস টিচার কাম হাউজ টিউটরকে ট্রাক্টার স্টেডিয়াম স্যার বলেছে। স্যারের মাথায় চারপাশে সামান্য চুলের উপস্থিতিতে ফুটবল মাঠের টাইপের একটা টাক থাকায় এবং স্যারের গলার সুর টা খসখসে ট্রাক্টারের সাউন্ডের টাইপ হওয়ায় স্যারকে ওরা অনেকেই এই নামে ডাকে। কত্তো ফাজিল ছেলেপেলে।
আমি বললাম, ও তার মানে তুই এই ঘটনা স্যার কে বলে দিবি এটা বলেছিলি বন্ধুদের তাই তোর বন্ধুদের হাতে তুলা ধুনা হয়ে এসেছিস!
কাব্য বলল ওটা হলে তো ভালই হত, পরে একসময় শোধ করে দেওয়া যেত।কত্তো ক্রিটিক্যাল হলে অাবার শোধ করার কথা চিন্তা করে। সমস্যাটা হয়েছে আমরা যখন ঝগড়া করছিলাম, স্যারের নামের পক্ষে আর বিপক্ষে তখন ঐ স্যার হঠাৎ চলে আসেন আর আমাদেরকে ঝগড়ার কারণ জিজ্ঞেস করেন। আমরা এতই উত্তেজিত ছিলাম যে স্যারকে আমি বললাম স্যার, ওরা না আপনারে ট্রাক্টার স্টেডিয়াম স্যার বলে ডাকে।
স্যার অবাক হয়ে হাঅাঅাঅাঅা করে আমাদের দিকে তাকিয়ে রইলেন রাগে ক্ষোবে স্যারের চুল গুলো দাঁড়িয়ে যায় দাঁড়িয়ে যায় অবস্থা আর তখন আমার পাশ থেকে অরিজ বলে উঠল স্যার আপনেই বলেন এরচেয়ে ফটাসাউন্ডটাক্কু স্যার নামটা অনেক ভাল না?

এরপর কি হল?

কি আর হবে! এরপরের টুকু শুধুই ইতিহাস।১ম বার কান ধরিয়ে ১০০ বার উটবস করালো,২য় বার হাতে করে যে বেত টা নিয়ে এসেছিলো সেটা পুরোই অামাদের পাছায় অার পিঠে ক্ষসিয়ে দিলো, তৃতীয়বারের মত যখন স্যার ভাংগা বেত ফেলে টিচার্স রুমে গেলেন নতুন জোড়া বেত আনতে তখন আমরা সবাই যে যার মত দেয়াল টপকে বাসায় চলে এসেছি।

হঠাৎ চমকে উঠলাম বারান্দার দরজায় চোখ পরতে। দেখি একটা বেশ সুস্বাস্থ্যবান টাইপ ফুল ঝাড়ু নিয়ে রুমেল চাচার বৌউ মানে অামার চাচিঅাম্মা রক্তচক্ষু করে কাব্যের দিকে তাকিয়ে আছে।

অামি তখন আরেক ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে আস্তে করে চাচার বাড়ি থেকে বেড়িয়ে এলাম।
ফাজিলের হাড্ডি, শিক্ষকের নামকরণ করস! খা মাইর!
সকালে অালুটারে দেখতে গেসিলাম ১০২ ডিগ্রি জ্বর নিয়া উঠানে বসে বসে অালুর চিপ্স খাচ্ছে।

■ Anik Chowdhury

No comments:

Post a Comment