Saturday, March 28, 2020

মৃত্যুক্ষুধা - সাজিদ খান

মর্গে আমার লাশটা দেখে নিজেরই কেমন যেন মায়া লাগছে । বেঁচে থাকতে শীতকাল আমার অসহ্য লাগতো আর এখন শুয়ে আছি হিমঘরে। অনেক ঠাণ্ডা লাগছে , আচ্ছা এখানে কি গায়ে দেওয়ার জন্য কিছু দেয়না । চারদিকে আরো কিছু লাশ নিথর পড়ে আছে। তাদেরকে ডেকে কথা বলতে ইচ্ছা করছে খুব। এক কাপ চা খেতে পারলে ভালো হতো। নিঃশ্বাস নিতে পারবার কালে চা খেতাম।খুব ঘনঘনই চা খেতাম।

ডোম এলো লাশ কাটবে। চোলাই মদ খেয়ে এসেছে । আমাকে কেটেকুটে তারপর আবার সেলাই করলো। একটা বারো হাত কাঁপলোনা ব্যাটার। বেসিনে রক্ত ধুলো। তারপর আবারো ফ্রিজে রেখে দিলো। যেন আমি অস্বস্তিকর কোন তরকারি । মর্মাহত হলাম অবচেতনভাবে। এই প্রথম মরে যাবার জন্য আফসোস হতে লাগলো। আম্মার মুখটা মনে পড়ছিলো। মাতৃসুলভ কাঁদছে বোধহয় ভদ্রমহিলা।

বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে খুব। শব্দ পাচ্ছিলাম। মুষলধারে বৃষ্টি। মৃত্যুর পর এ কোন অদ্ভুত জীবন শুরু হলো আমার? ভেজা গাছের পাতায় করুণ বাতাসের শনশন শব্দ। রাস্তায় রিকশার চাকাগুলো বৃষ্টির পানির সাথে মধ্যস্থতা করে কচকচ শব্দ করতে করতে এগুচ্ছিলো। এগুচ্ছিলো অসময়ে লাশকাটা ঘরে শুয়ে থাকা একজন ব্যর্থ আমাকে, ভুলে যাবার সকল স্বাভাবিক একঘেয়ে আয়োজন...

💭

#মৃত্যুক্ষুধা

No comments:

Post a Comment