Tuesday, March 31, 2020

৩১.০৩.২০ - আরেফীন ফাহিম

দুপুর ২টা বেজে ১০ মিনিট,

অলসতার সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করে পুকুরঘাটে দুই পা পানির মধ্যে ছড়িয়ে খালি গায়ে বসে আছি। সূর্যের প্রখর রৌদ একেবারে চামড়ায় এসে চুমু খাচ্ছে। শরীরের নিচের অংশ শীতল পানিতে ভিজানো আর উপরের অংশ রৌদে পুড়ে কালো বর্ণ ধারণ করছে। এতে অবশ্য আমার আনন্দ লাগছে একসাথে দুই ধরণের তাপমাত্রা একই সময়ে অনুভব করার মধ্যে একটা মজা পাচ্ছি।

গ্রীষ্মের সময়টায় গ্রামের ছেলেপেলেদের সবচেয়ে প্রিয় স্থানের একটি হলো এই পুকুর। ঘন্টার পর ঘন্টা এই পুকুরেই কাটিয়ে দেয় গোসল করতে করতে। গ্রীষ্মকালীন সময়ে গ্রামের ছেলেপেলেদের কাছে গোসল করাটা এক ধরণের উৎসবের মতই। এইসব ভাবতে ভাবতে মনে পড়লো অনেকদিন যাবৎ সময় নিয়ে গোসল করা হয় না পুকুরে। শীতকাল বলুন আর গ্রীষ্মকাল বলুন কোনোমতে একটা ডুব নিয়ে উঠতে পারলেই গোসল শেষ। ছোট বেলায় এই পুকুরেই কত রকমের খেলা খেলেছি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সাঁতার প্রতিযোগিতা এবং এক নিশ্বাসে পানি নিচে কে কতক্ষণ থাকতে পারে। সময়ে বদলাচ্ছে এখন আর উৎসব করে গোসল করা হয় না।

অলসতা কাটিয়ে একটা ঝাপ দিলাম পুকুরে। শরীরটা একেবারে ছেড়ে দিয়ে মাথাটা পানির ভিতর ডুবিয়ে পুকুরে ভাসছি। কানের কাছে ব্যাঙের প্রচুর শব্দ শুনতে পারছি। ঝিঁঝিঁ পোকারা যেভাবে শব্দ করে ঘুরে বেড়ায় ঠিক যেইভাবেই ব্যাঙের দলগুলো শব্দ করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ব্যাঙদের পানির ঝিঁঝিঁ পোকা বলা যেতে পারে৷ ব্যাঙদের জীবন অনেক সুন্দর হয় কারণ তারা উভচর প্রাণী। স্থলে এবং জলে দুই জায়গা জুড়েই এদের বসবাস আছে। ব্যাঙদের সবচেয়ে সুন্দর বিষয় হলো এদের ছাতা এবং এই ছাতা সম্পর্কে আমার তেমন একটা ধারণা নেই। দেখতে ছাতার মত বলেই বোধহয় এদের ছাতা বলা হয় কিন্তু ব্যাঙের ছাতা বলার কারণ আমার জানা নেই। নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিলো পানি নিচে ডুব দিয়ে থাকতে থাকতে বের হয়ে আসলাম চিন্তা এবং পানির নিচ থেকে। সাঁতার কাটা অনেক পরিশ্রমের কাজ তারপর ঝাপ যেহেতু দিয়ে দিয়েছি এখন তো সাঁতার কেটেই পাড়ে যেতে হবে নয়তো ডুবে মরতে হবে।

সিঁড়িতে এসে অলসতা ভর করেছে ভিজে গায়ে আবার কিছুক্ষণ বসে রইলাম। হঠাৎ মনে পড়লো একসময় পুকুর পাড়ে খুব আড্ডা দিতাম। আড্ডার জন্যে পুকুর পাড় খুব সুন্দর একটা স্থান কারণ আশেপাশে প্রচুর গাছ থাকে। আর বসন্তকালে পুকুরপাড়ের মত সুন্দর স্থান খুব কম দেখেছি। দুপুরের সময়টা এই পুকুরপাড়ে ছায়ার নিচে বাতাস খেতে খেতে কাটিয়ে দেওয়ার মত সুখ সবার একবার হলেও ভোগ করা উচিত। এইসব ভাবতে ভাবতে ভিজে শরীরটা রৌদের তাপে শুকিয়ে গেছে।

পুকুরঘাট থেকে উঠে গা মুছতে মুছতে পুকুরটার চারপাশ একবার চোখ বুলিয়ে নিলাম হঠাৎ মনে পড়ে গেলো এখন তো বসন্তের খোঁজ সহজে পাওয়াই যায় না। গ্রীষ্মের পর বর্ষা আর এরপর একটু সুযোগ পেলে শীতকাল দেখা যায়। বাকীদের দেখা খুব একটা পাওয়া যায় না। আমার আফসোস হলো যারা বসন্তের পুকুরপাড় উপভোগ করেনি তাদের জন্যে।

বসন্তের নেই খোঁজ,
পুকুরপাড়টাও অপেক্ষায় আছে রোজ।

No comments:

Post a Comment