পার্ট ১
ফাইনাল ভাইবাটা ভালোই হলো মনে হয় লাস্ট সেমিস্টারে সিজিপিএ ৩.৫ উঠবে তাহলে এভারেজে ৩.২৭ হয়ে যাবে।বাইরে যাওয়ার চিন্তাভাবনা নাই।দেশেই একটা জব মিললেই হলো।তাই হাই সিজিপিএ নিয়ে অতো হা হুতাশ নাই।
সময়টা এখন ভালোই চলে।সারাদিন আড্ডা হয়।টুয়েন্টি নাইন খেলা হয়। নাসিম মামার দোকানে সকালে সিঙ্গারা না খেলে তো দিন ভালো যায় না।এখন আবার নতুন অভ্যেস হইছে।লিকার কড়া করে দুধ চা সাথে একটা সিগেরেট।আগে অভ্যেসটা ছিলো না।বাট এখন হয়ে গেলো।
২.
-দেখো রোহান,তোমাকে জাস্ট সহ্য হয় না আমার।আর কল দিবা না আমাকে
-কোনো প্রীতি?হঠাৎ এতো বিরক্ত আমার উপরে
-কল দিবা না বলছি জাস্ট কল দিবা না
-আরে কি হইছে বলবা তো
-তোমার প্রতি আর আমার ফিলিংস আসে না।নাও ইটস টাইম টু লিভ দিস নাও
-দেখো তুমি আমার ফাস্ট লাভ।তোমাকে কিভাবে ছাড়ি বলো
-আমি কিজানি বাই এন্ড টেক কেয়ার
টুট টুট টুট
৩.
প্রীতি আমার ফাস্ট লাভ।চার বছরের রিলেশান।ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পরেই পরিচয়।অবশ্য ক্লাসমেট না।ইন্টার সেকেন্ড ইয়ার।
প্রথম যখন দেখি এক ঝলমলে রোদেলা সকাল।ভবঘুরের মতো রাস্তায় হাটার অভ্যেস ছিলো।হাটতেছিলাম আনমনে।সামনে একটা মেয়ে দৌড়াই গেলো।লম্বা কালো চুল ঝুলিয়ে দুলিয়ে দৌড়াচ্ছে।
কি ব্যপার এভাবে দৌড়ায় কেনো?
পরে দেখি পিছনে মোটামুটি দশজনের একটা দল পিছু নিছে।এই ককটা দিয়ে যা।তুই আউট হ
বাহ্ ইন্টারেস্টিং তো,দেখি কি হয়
দেখলাম সবাই মিলে ধরল।
-কক দে তুই বাইরে মারছস এখন বাদ।
-আরে আমি ওইটা দাগের উপর ছিলো আউট কেনো
-তাহলে দৌড়ালি কেনো
-আমার এখন খেলতে ইচ্ছা করতেছে না তাই তোরাও খেলবি না
- তোর কথা হবে নাকি আমরা খেলবো
-কিভাবে খেলবি ককটা তো ছিড়ে ফেললাম
-এইরে.....
বলে রাখা ভালো ব্যাডমিন্টনের ফেদারটাকে কক বলেই পরিচিত
আমি দেখতেছি আর হাসতেছি।না মেয়েটার মধ্যে আলাদা কিছু আছে।জেদী,বাচ্চাসুলভ
এই কিরে মনের মধ্যে কি ঘন্টি বাজলো নাকি,এই রকমই তো মনে হলো
আচ্ছা বাদ ভার্সিটিতে ক্লাস আছে যাই করে ফেলি লেকচারটা নইলে আর পাবো না
৪.
পরেরদিন সেইম জায়গা খেলতেছে সবাই।এখন ঠিকঠাক সব।মেয়েটা ভালোই খেলতেছে দেখি।আমার থেকে ভালো খেলে বলা যায়।আমি একেবারে কাচা ব্যাডমিন্টনে।কিছুক্ষণ দেখে একটা জিনিস খেয়াল করলাম মেয়েটার হাসিটা সুন্দর খুব।হৃদয়ে আঘাত করার জন্য যথেষ্ট।
-তো রোহান বাবাজি কি প্রেমে পড়ার চিন্তাভাবনা করেতেছস নাকি?
-মনে হয় প্রেম জিনিসটা অতো খারাপ না যতটা বাপ্পারাজের সিনেমায় দেখি
-প্রথমে সবাই শাকিব খান থাকে,পরে বাপ্পারাজ মাথায় চেপে ধরে
-আরে সবাই বাপ্পারাজ হয় নাকি রে,কিছু কিছু তো রিয়াজও হয়
-কোথায় কি হবে দেখা যাবে আগে মেয়েটাকে একবার দেখা তো
-দেখাবো ঠিক আছে তবে নো কমেন্টস অনলি দেখা
-ওকে
ইনসাইড দা কভার
পর্ব ২
৫.
পরেরদিন সকালে গোসল করে শার্ট গায়ে দিয়ে হল থেকে রবিনকে সাথে নিয়ে বের হলাম।হালকা পারফিউমও দিলাম।বলা তো যায় না যদি কাছাকাছি হয়ে যাই।
দুর থেকে দেখলাম সবাই খেলতেছে।আজকে মনে হয় একটু বেশী হাসিখুশি লাগতেছে ওকে।নাকি শুধু আমার চোখে ধরা দিচ্ছে।ভাবলাম একটু কাছ দিয়ে যাই যদি কথা বলা যায়।
ভাগ্যে ছিলো বোধহয়।ককটা পড়লোও আমার সামনে একদম উড়িয়ে।নিতে আসলো সেই মেয়েটা যার জন্যই আসা
কি কপাল আমার।নিয়ে নিলাম হাতে ককটা।এ সুযোগে যদি কথা বলা যায়।
-দেন এটা
-আচ্ছা নাও,তো তোমার নাম কি
-তাসপ্রিয়া তাবাচ্ছুম
-কোন ক্লাসে পড়ো?
-ইন্টার সেকেন্ড ইয়ার
-বাপরে এই বয়সেও খেলতে হয়
-,কেনো আরো বুড়া হয়ে খেলতে হয় নাকি
-না তা না,এখানে কি বেড়াতে আসছ?
-হুম্ম খালার বাসায়
-কবে যাবা?
-আছি দশ বারো দিন
এই প্রীতি কিরে কি হলো এতো কি কথা বলতেছস কেন কক নিয়ে চলে আয়
-আসতেছি বলে চলে গেলো
আহ্ তাহলে নাম প্রীতি।এতক্ষণে মনে হলো আমার সাথে তো বন্ধু রবিনও আছে।একটু দুরে মিটিমিটি হাসতেছে
-কিরে হাসছ কেনো?
-না তোর কারবার দেখে
-নাম প্রীতি,ইন্টার সেকেন্ড ইয়ার
-হ তোর সাথে তো একেবারে ঠিকঠাক।আংকেল আন্টিকে জানাই
-জানাবি তবে এখন না
-আচ্ছা তো চল ভাই আজ ফাস্ট কথা বলছে একটা ট্রীট হয়ে যাক
-কই যাবি,সাদিয়াস কিচেনে চল
-ওকে বন্ধু চলো
প্রথমদিন কথা বললাম।রাতে ঘুমাতে গেছি শুধু তার কথাগুলো।লাজুক হাসিটা উফফ
-আচ্ছা দোস্ত তোর পার্বতীর এখন কি খবর?
-বিয়ে হয়ে এক বাচ্চার মা আর পার্বতী না ওর নাম মোমেনা
-আরে তুই দেবদাস হলে ওতো পার্বতীই তাই না হাহা
-ক্লাসমেটে প্রেম করলে মামা হয়েই বাকি জীবন কাটাতে হয়
-তা ঠিক সেইম এইজে টিকে না
এখন ঘুমা দেখিস স্বপ্নে আবার টাইটানিকের রোজ_ জ্যাক সেজে জাহাজের কোনায় দাড়াইস না।তোর যে শরীর আমার গায়ের উপর দাড়াই ভর্তা বানাই ফেলবি
-না আপাতত দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে শাখরুখের পোজ দিবো
-তরাই ফেলবা এমনে যে নাক ডাকস
-আমি নাক ডাকি না
-রেকডিং করে রাখবো
-তুই ডাকি তুই রেকডিং কর
-ওকে গুড নাইট
পর্ব ৩
৬.
পরদিন সকাল হাটতে বের হলাম।উদ্দেশ্য সেইম।প্রীতিকে দেখা
দেখলাম গ্রুপের সবাই আছে।আমি যাচ্ছি আর মিটিমিটি হাসতেছে সবাই।আড়চোখে প্রীতিকে খুজতে লাগলাম।মেয়েটা একটু পিছনে।আড়চোখে তাকালো।মেয়েদের এই এঙ্গেল থেকে দেখলে যেকোনো ছেলেই ক্রাশ খায়।আর এটা তো আমার মনের রাজপরী।হা করে তাকিয়ে থাকলাম।এক পিচ্ছির ডাকে ধ্যান ভাঙ্গলো।
-এই যে এভাবে তাকিয়ে কি দেখেন ভাইয়া।মশা মাছি সব ডুকে ডিম পেড়ে আবার বাইর হই যাবে।পরে সিটি কর্পোরেশান আসবে আপনার ড্রেন পরিষ্কার করতে ডেঙ্গু রোধের নামে।হি হি হি...
এমন করে লজ্জা দিতে হয়।তাড়াতাড়ি জায়গা ছেড়ে চলে আসলাম।বাপরে কি মেয়েগুলোরে।আমার অবস্থা তো টাইট করে দিবে যদি আগ বাড়িয়ে কিছু করতে চাই
আচ্ছা থাকুক মনের রাজপরী।এবার একটু ক্যাম্পাসে যাওয়া যাক।সবে মাত্র সিনিয়র হলাম।বিবিএ সেকেন্ড ইয়ার। জুনিয়রে গমগম করতেছে ক্যাম্পাস।এই প্রথম প্রথম ভার্সিটি নিয়ে যে স্বপ্ন থাকে আরকি।হইহুল্লা করবে।একটা দেখি গিটারও নিয়ে আসছে।বেটা ভার্সিটিতে আসছস দুইদিনও হলো না গিটার নিয়ে ভাব মারস।আর কিছু আছে মেয়েদের পিছু পিছু ভাব জমাইতে ব্যস্ত।নিলয় এসে বলল,দোস্ত দেখছস জুনিয়রদের অবস্থা,এগুলারে একটু টাইট দিতে হবে।
-হুম্ম,এগুলা তো মামার বাড়ি আসছে মনে হয়,যেভাবে শুরু করছে
--জিয়া,কাশেম,জাহেদ কই ডেকে আন,আর তুই এক জুনিয়রেরে দিয়ে দশ বারোজনকে ডাকি লাইব্রেরির পিছনে আয়,আমরা থাকবো
-আচ্ছা একটা পরিচিত জুনিয়র আছে ওরে দিয়ে ডাকি আনি
-আর ওই গিটারিস্টারে মনে করে আনবি,দেখি কেমন বাজায়
-হাহা ওকে
আমাদের ভার্সিটিতে র্যাগ দেওয়া কমন ব্যাপার।র্যাগ না দিলে জুনিয়ররা মাথায় উঠে যায় বলে তখন থেকে এই রীতি চলে আসছে।আমরাও খাইছি এখন দিতে হবে
আশিক শুরু করলো
-কিরে তোরা কি মাত্র ভর্তি হইলি
-হুম্ম ভাই
-তোদের দেখে মনে হচ্ছে মামার বাড়িতে বেড়াইতে আসছস?এ অবস্থা কেনো তোদের?
-না ভাই কিছু না
-এই তোর নাম কি কাধে নীল ব্যগ?
-ভাই আরাপাত
-তুই যে মেয়েটার সাথে ঘুরতেছস ওইটা কে হয় তোর?
-ভাই ক্লাসমেট
-জাস্টফ্রেন্ড নাকি?
-না ভাই ফ্রেন্ড
-তোদের দেখে তো মনে হইলো পার্কে আসছস?এটা ক্যাম্পাস না পার্ক?
-স্যরি ভাই,আর হবে না
-তুই যাই দেখি আয় লাইব্রেরিতে কয়টা সিড়ি আছে,আর কয়টা টাইলস আছে সিড়িতে
এবার শুরু করলো চাপাবাজ সাফায়েত,সারাদিন চাপাবাজি করতে করতে অভ্যেস খারাপ হই গেছে নরমাল কথাও এখন চাপা লাগে
-এই চুল স্পাইক করা,হাতে ব্রেসলেট নাম কি তোর?
-ভাই প্রসুন
-এ অবস্থা কেন তোর,মারামারি করতে আসছস নাকি এখানে?
-না ভাই পড়তে আসছি
-তোরে জিগ্গাইছি অতিরিক্ত কথা কস তুই
-স্যরি ভাই
-ব্যাগ আনস নাই খাতা আনছস দেখি
-জ্বি ভাই
-দেখি খাতা বাইর করে তুই আর সানি আপাকে নিয়ে একটা গল্প লিখে আন ১০০ শব্দের
এবার আসলো হাই জিপিএ আশিক,অলরাউন্ডার পড়ালিখায়।বাইরের দেশে যাওয়ার চিন্তা
এই চশমা পড়াটা এইদিকে আয়
-জ্বি ভাই
-কিরে সালাম কালাম শিখস নাই নাকি
-স্লামুআলাইকুম
-শুনি নাই
-স্লাআমুউআলাইইইকুওওম
-বাড়ি কই তোর
-ভাই রাউজান
-হালদা নদীর পাশে?
- না ভাই দুর আছে
-চিংড়ি খাস?
-জ্বি ভাই
-ওই মেয়েটা কে ছিলো যার পিছে পিছে ছিলি
-কই ভাই আমি কারো পিছে ছিলাম না
-সাধু সাজস না,নীল ওড়না ছিলো যে
-কলেজ ফ্রেন্ড ভাই
-তোর নিলয় ভাই তো ওইটার উপর ফিদা হই গেছে
-ভাই ওর বয়ফ্রেন্ড আছে
-কিরে নিলয় গোলকিপার আছে বলল
নিলয় গলা হাক দিয়ে বলল
-দোস্ত জানস তো আমি ফুটবল ভালো খেলি,সমস্যা নাই
-তুই যাই তোর নিলয় ভাই জন্য শরেৎচন্দ্রের ভাষায় রংচং মেখে একটা লাভ লেটার লিখে আন
-জ্বি ভাই
এবার আমার পালা আসলো
এই গিটারিস্ট এদিকে আয়
-স্লামুআলাইকুম ভাই
-ওয়াইলিকুম আসসালাম
-গিটার বাজানো শিখে গেছস তাহলে
-জ্বি ভাই ছোট বেলার শখ ছিলো।অনেক আগে থেকে শিখছি
-তো ক্যাম্পাসে কেনো গিটার আনছস?সবাইরে দেখাইতে তোর গিটারের তার ঠিক আছে
-না ভাই এমনে
-দুরো তোর এমনে,তোর গিটারের তার কয়টা
-ভাই চারটা
-কি বলছ এক তারের গিটার বাজাইতে পারস না
-এক তারের নাই ভাই
-তুই আজকে খালি হাতে গিটার বাজাবি আর এই লাল শার্ট এইদিকে আয়
ইতার গিটারের তালে তালে তুই ইতার আরেক হাতটা নিয়ে তুইও গিটার বাজাবি বাট সাউন্ড করবি মুখ দিয়ে বুজছস
-জ্বি ভাই
-শুরু কর
এই ছিলো একদিনের র্যাগ সবার ঘাম বাইর করা পর্যন্ত চলতো।কিন্তু শেষে মজা করা হতো আস্তে আস্তে ফ্রী হয়ে যাই তারপর সবাই নাস্তা করি সিনিয়র জুনিয়র।এটাই মজার দিক।র্যাগ জিনিসটা হয়তো আপনাদের খারাপ লাগতেছে।কিন্তু সিনিয়র জুনিয়রের এক মজার বন্ধন শুরু হয় এই র্যাগ দ্বারাই।সারাজীবন মনে রাখতে হয় এই চার বছরের স্মৃতিগুলোকে।
বিল পে করলো দা টিউশন কিং ইব্রাহিম।শালায় দশটা টিউশন করায় খাওয়া ঘুম আর টিউশন।ব্যাংকে কতো টাকা আছে কিজানি।বিয়েও নাকি গোপনে করে ফেলবে এমন শুনা যাইতেছে
পর্ব ৪
৭.
-তো দোস্ত একটা চিরকুট লিখে দে না
-আমি কি কবি নাকি রে
-আরে দেনা লাস্টে নাম্বার দি
-যা তো ঘুমা
-সকালে লিখে দিস
-আচ্ছাহ্
সকালে উঠে সুন্দর করে একটা কাগজে লিখলাম"ভালোবাসি তোমাকে"
ব্যাস আর বেশী কিছু না
এবার যাওয়া যাক।কিটকাট আমার খুব পছন্দ।পছন্দের মানুষটার জন্য পছন্দের জিনিসটা কিনে নিয়ে যাই
দুইটা কিটকাট নিলাম।আজ যেভাবেই হোক কথা বলে চিঠিটা দিতে হবে
গেলাম ওই জায়গায়।আগেও আসতাম।জায়গাটা অতো সুন্দর লাগতো না।এখন খুব ভালো লাগে।শ্বাস নিতেও আলাদা একটা ভালো লাগে সৃষ্টি হয়।তাহলে কি প্রেমে পড়লে এমন হয়
দুইটা মেয়ে, প্রীতি আর ওর কাজিন মনে হয়।দোকানে গেছিলো।হাতে অনেকগুলো আচারের প্যাকেট দেখলাম।হাহা এখনো বাচ্চাসুলভ আচরণ।মায়ায় যেনো পড়াতে বাধ্য করতেছে
পিছু পিছু যেতে লাগলাম।কিছুক্ষণ ভেবে ডাক দিলাম"এই প্রীতি"
ফিরে তাকালো
- আমার নাম প্রীতি কেমনে জানেন
-ওইদিন বলছিলা তো
- আমি তো তাসপ্রিয়া বললাম
- ওই শুনতে পাইছিলাম ওরা প্রীতি ডাকতেছিলো(বাপরে কি মেয়ে রে এটা)
-হুম্ম তো কেনো ডাকতেছেন
-এই চকলেট গুলো তোমাকে দিলাম রেখে দাও
-আমি চকলেট খাই না
-কেও কিছু দিলে নিতে হয়,ভাব দেখাতে হয় না
-ভাবের কথা কেনো বলতেছেন,আচ্ছা দেন
-এই কাগজটাও রাখো
-কি আছে এটাতে
-পরে পড়ে নিও
-আচ্ছা
একটা মুচকি হাসি দিয়ে চলে গেলো।আহ্ মেয়েটাও কি আমার প্রেমে পড়ে গেছে।
এতো কিউট কি করে হয় একটা মেয়ে।জাস্ট টাইটানিকের রোজ।
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চলে আসলাম ক্যাম্পাসে।
আজকে আমার পক্ষ থেকে সবাইকে ট্রীট।মামা সবাইরে সিঙ্গারা দাও
-কিসে দোস্ত আজকে এতো খুশি
রবিন বলে উঠলো- মামায় এখন প্রেমে পড়েছে,কিরে রোহান মিশন পাসড তো?
-হুম্ম সাহস নিয়ে দিয়ে দিলাম তো
-আহা আমাদের রোমিও রে,ভার্সিটিতে উঠে প্রেমে পড়লো
আশিক আসলো এবার
-রোমিও সাহেব,সবাই প্রেমত্রেমের পাট চুটিয়ে এখন ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবতেছে আর তুই এখন প্রেমে পড়তেছস।হাও কিডিং ম্যান
-চুপ শালা।তুই পড়ালিখা করে বিদেশ যাই বিদেশী একটা ভাগাই নিবি।আমরা দেশী মানুষ প্রেমের আবার সময় বুজি নাকি
-এরে রোমিও তো পুরা আগুন।দেখে রাখিস জ্বালাই দিবে
-আগে ব্যটা তুই তোর পেট টা দেখ।বানাই রাখছস ছয় মাসের মতো
-এরে পেট নিয়ে কথা বলবি না।এটা অভিজাত্যের প্রকাশ
-তো তোর ওই ম্যাডামটার কি খবর? এখনো স্কুলে ক্লাস করায়?
-আরে ওইটা কিশোরে প্রেম ছিলো।শুধু ক্লাসে যাইতাম আর ম্যাডামের কথা শুনতাম।ম্যাডাম কান ধরাইলেও মজা লাগতো
-ভাউরে
তো আড্ডা শেষে ক্লাস করে হলে ফিরলাম।আজকে গরু দিয়ে মিল।যাক খুশির দিনে মামারাও বুজে আজকে কি দিতে হবে।
এখন শুধু অপেক্ষা কল দিবে কি দিবে না,দিবে কি দিবে না
-রবিন কি বলস কল দিবে
-এতো তাড়া কিসের মাই বয়,আমার দুই সপ্তাহ্ পরে আসছিলো মেসেজ,মায়ের মোবাইল থেকে দিছিলো
-বাবারে,এতো দেরী হইলো তো ফুসফুসে বাতাস থাকবে না
- আরে দিবে,তোর দিকে হাসি দিছে দেখছি আমি,তোর প্রতি দুর্বল আছে
-তুই আমার বন্ধু নে সত্যি করে বল
-বন্ধুই তো
-তো এতো ভালো ভালো কথা বলতেছস কেনো।কোথায় ভয় লাগাবি তা না
-আমিও চাই তুই প্রেম কর,প্রেমের মজা তো এখনো বুজস নাই
-যা তো ঘুমা
-ওকে গুড নাইট
চলবে
No comments:
Post a Comment