Thursday, April 2, 2020

প্রসঙ্গ : আমার দেখা নয়াচীন, শেখ মুজিবুর রহমান ও বর্তমান ভাবনা - ইমাম হাসান শিশির


১৯৪৮ সালে লাল বাহিনীর হাত ধরে যাত্রা শুরু করেছিলো নয়াচীন। লাল বাহিনীর নেতৃত্বে থাকা মাও সেতুং চীনের জং ধরা সমাজ ব্যবস্থাকে গুটিয়ে দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু যখন নয়াচীন ভ্রমন করেছিলেন তখন নয়াচীনের বয়স মাত্র চার বছর কিন্তু চার বছরেই রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে চাইনিজ জনগণের গণমানসে পরিবর্তনের হাওয়া লাগাতে পেরেছিলেন মাও সেতুং। এই প্রসংজ্ঞে শেখ মুজিবর রহমান বলেন, "রাস্তায় এলাম। কিছুদূর হেঁটে দেখি একটা রিকশা দাড়াঁইয়া আছে। তাকে বললাম, পিকিং হোটেল। পিকিং হোটেল ও বুঝলো: বললো আসো, কথা না- মাথা নেড়ে। উঠে বসে পড়লাম। ভাবলাম, চিন্তা কি! কোথায় নিয়ে যায় দেখা যাক। দেখি ঠিকই হোটেলে নিয়ে এসেছে। আমার মনে একটা কথা উঠলো, দেখি বিদেশি লোক পেলে, কেমন লুট করে। আমি হঠাৎ পকেটে হাত দিয়া প্রায় ১০ টাকা পরিমান ওর সামনে ধরলাম। ভাবেসাবে বুঝাইয়া দিলাম, যাহা তোমরা নিয়ে থাকো তাই নাও। রিকশাওয়ালা আমার হাত থেকে ঠিক আট আনা পয়সা গুনে নিয়ে চলে গেল।" এছাড়া খুব অল্প সময়ের মাঝে মাও সেতুং চীনের জাতীয়তাবাদী চিন্তার ধারাতেও প্রভাব রাখতে পেরেছিলেন যা ফুটে উঠে বইতে লিখিত নিম্নোক্ত কয়েকটি লাইনের মধ্য দিয়ে "আমি বাজারে গেলাম ব্লেড কিনতে। এক দোকানে তিন চার বৎসরের একটা পুরানো ব্লেড বের করলো তার উপরে জং পড়ে গেছে।দাড়ি তো দূরের কথা 'চাড়ি'ও( নখ) কাটবে না। আমি জিজ্ঞেস করলাম সমস্ত পিকিং শহরে একটা ব্লেড পেলাম না,কারণ কী? দোকানদার ভাঙা ভাঙা ইংরেজি জানে। আমাকে বললো বিদেশ থেকে এই সমস্ত জিনিস আমরা আনি না। আমাদের নিজেদের ঘরে যে ক্ষুর তৈরি হয় তা দিয়েই শেভ করি। যে পর্যন্ত আমরা নিজেরা ব্লেড ফ্যাক্টরি করে নিজেরা তৈয়ার করতে না পারবো, সে পর্যন্ত ব্লেড কেউ ব্যবহার করবে না। আমরা বিদেশকে কেন টাকা দিবো?" যাইহোক নয়াচীনের দাঁড়ানোর কীর্তিগুলো এইভাবে ছড়িয়ে ছিটেয়ে আছে ১৯৫৪ সালে লেখা " আমার দেখা নয়াচীন" নামক ভ্রমণকাহিনীতে।
কিন্তু এই বইটি যখন পড়ছি মাও সেতুংয়ের নয়াচীন ৭ দশকেরও বেশি সময় পার করেছে। এর মাঝেই হয়ে উঠেছে দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তির অধিকারী। কিন্তু অর্থনীতির পরাক্রমশালী এই চীন "করোনা" নামক ভাইরাসে বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে অতি সাম্প্রতিক সময়ে। "করোনা ভাইরাস" শুধু মাত্র চিনের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করেনি সেইসাথে ঝুঁকিতে ফেলেছে দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থাকেও। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চীনের স্টক এক্সেজ ইতিমধ্যে হারিয়েছে বিলিয়ন ডলার। কৃষিপণ্য রপ্তানিতে শীর্ষে থাকা দেশটির রপ্তানি প্রায় স্থবির। এমনকি দেশটিতে ভ্রমণ করা পর্যটক এবং বিমান কর্মীদের নানা ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে অন্য দেশের ভিসা পেতে। এককথায় একঘরে করে রাখা হয়েছে চীনকে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এর আগেও ভয়াবহ রোগের আউট ব্রেক অবলোকন করেছে,যদিও সেসব দেশে এইরকম অঘোষিত অবরোধ দেখা যায় নি। ফলে করোনার সাথে 'কন্সপাইরেসির" মিল খুঁজলে খুব একটা বিস্মিত হবার কিছু থাকে না। তাছাড়া রাশিয়ান টিভি চ্যানেল "ওয়ানের" একটি প্রতিবেদনে ভাইরাসটিকে " জাতিগত বায়ো উইপন" আক্ষা দিয়ে একধরনের বৈশ্বিক রাজনীতির ইংগিত দিয়েছে। ফলে বৈশ্বিক রাজনীতি এবং করোনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে লাল বাহিনীর চীন কিংবা মাও সেতুংয়ের চীন বরাবরের মতো অর্থনীতি এবং রাজনীতিতে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে পারবে কিনা তা এখন দেখার বিষয়!

No comments:

Post a Comment