এই প্রথম কোনো গল্প নিজেই লেখলাম।
বানানে যদি ভুল থাকে ক্ষমা করে দিবেন।
সেইদিন টা ছিলো বোধহয় শনিবার। আমি তখন ক্লাসে ছিলাম, ক্লাসে তো হঠাৎ দুজন লোক আসলো আমি ছিলাম ৩নাম্বার টেবিলের মাঝখানটায়, দেখলাম তাদের হাতে অনেক কাগজপত্র, তো তারা সোজাসুজি ক্লাসে ছলে আসলো আর বলতে লাগলো আপনাদের মাঝে যারা ক্রিকেট খেলতে আগ্রহী তারা এই ফর্মটা নিতে পারেন। শুনার সাথে সাথে টেবিল থেকে দাঁড়িয়ে গেলাম আর মন দিয়ে শুনতে লাগলাম সবকিছু।
পরে বুঝলাম তারা pkcbd ক্ষুদে ক্রিকেটার নামের
একটা সংস্থা আছে ওখান থেকেই আসছে। এই বলে তারা ছলে গেলো।
আচ্ছা কথা বলতে বলতে পরিচয়টাই দেওয়া হলো নাহ। আমার নাম মোহাম্মদ আরমান হোসাইন। আভার তার নানু খুশি করে একটা নাম দিয়েছেন রিয়াজ,সেটা জনপ্রিয়তা না পাওয়ায় কেও ডাকেনাহ।
আর আমি এবার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। বাবার অনেক শখ ছিলো মাদ্রাসায় পড়ার।
তাই মিরস্বরাই লতিফীয়া কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি হলাম।
তো ক্লাস ছিলো জাহেদ স্যারের, ক্লাস শেষ করার আগে পানি খাওয়ার বাহানা করে বের হলাম। ২য়তলা থেকে তাড়াহুড়ো করে নিছে নামতেই দেখি লোক দুটোর মধ্যে একজন ছেয়ার ও টেবিল নিয়ে বসে আছে। টেবিলের উপর ক্ষুদে ক্রিকেটারের ফর্ম গুলা। আর দেরী না করে গেলাম ওখানে, গিয়ে জিজ্ঞাস করলাম প্রথমে কি করতে হবে,
লোকটি বললো _ আপনাকে প্রথমে ১০০ টাকা দিয়ে এটি কিনে নিতে হবে..!
লোকটির কথা শুনে না বুঝার ভান করে পাঞ্জাবির পকেটে হাত দিলাম। বের করে দেখি খুচরো ১৫ টাকার মতো আছে।
আম্মু প্রতিদিন ক্লাসে আসার জন্য ২০ টাকার বেশি দেয়না। ৫টাকা গাড়ি ভাড়া দিয়ে আর গুলো বাচিয়ে রেখে ছিলাম।আভার মনে মনে ভাবতে লাগলাম ১০০ টাকা মাদ্রাসার কেরানী নাসির ভাইয়া থেকে নিবো। আর উনি আমাদের গ্রামের ভূঞা সাহেব তাই আর ভয়ে ভয়ে নেওয়া হলো না।
তো কিছু না করার আগে ঝুমঝুম করে বৃষ্টি নামলো। এবার তো আর কিছু করার ছিলো নাহ। আর আমার অনেক শখ ছিলো ক্রিকেটার হবার, ক্রিকেট খেলা আমার প্রিয় খেলা ছিলো।
তাই সব কিছু ভুলে বৃষ্টির মাঝে দৌড় দিলাম। সেইদিন আর ওভার ব্রিজ দিয়ে রাস্তা পার হলাম না। দেওয়ালের উপর দিয়ে লাফ মেরে পার হলাম।
এক দৌড়ে লেগুনাতে উঠলাম বৃষ্টিতে পাঞ্জাবি বিজে গেছে। তো আভার ৫ টাকা ভাড়া দিয়ে পেনাপুনি ব্রিজে নামলাম। এভার আর বৃষ্টিতে বেজা ছাড়া আর কোনো উপায় নেয়। বৃষ্টিতে ভিজতেছি আর দৌড়াইতেছি অনেক খুশি ছিলাম তাই কখন যে ঘরের সামনে ছলে আসলাম মনেই ছিলনা।
তো বেজা অবস্থায় ঘরে ডুকলাম, আম্মু আম্মু করে ডাকলাম, দেখি আম্মু রান্না করতেছে।
আমি : আম্মু আমাকে ১০০ টা টাকা দেন অনেক দরকার।
আম্মু: কেন! কি করবি....?
আমি : আরেহ প্রেকটিকেল খাতা কেনা লাগবে তাই।
আম্মু: বছরে কয়বার লাগে তোর এই খাতা!
আম্মু লেখাপড়া জানেনা, তাই সহজেই বোকা বানিয়ে মানিয়ে নিলাম।
আলমারি থেকে ১০০ টাকা বাহির করলো আম্মু।
তারাতারি করে আম্মুর হাত থেকে টাকা নিয়ে আমার রুমে আসলাম বেজা পাঞ্জাবিটা পাল্টাইলাম,কিন্তু পায়জামা পাল্টাই নাই দেরী হয়ে যাবে তাই।
এইবার বৃষ্টি একটু কমার দিকে, ছাতা নিয়ে ছুটলাম মাদ্রাসার দিকে।
আভার পেনাপুনি ব্রিজ থেকে ৫ টাকা ভাড়া দিয়ে মিরস্বরাই গিয়ে পোছাইলাম।
সোজা গেলাম মাদ্রাসায় দেখলাম লোকটা এখনো বসে আছে। আর উপরের দিকে তাকিয়ে দেখি ছগির আমিন হুজুরের ক্লাস ছলছে। লোকটার কাছে গিয়ে বড় করে একটা নিশ্বাস নিলাম।
১০০ টাকা দিলাম তাকে। ফর্মটা হাতে নিয়ে অনেক খুশি হলাম, এবার ফর্ম পুরণের কাজ।
ফর্মে লেখা ছিলো... উইকেটকিপার/ব্যাটিং/বোলিং ৩টার মধ্যে যে কোনো একটা। আমি কিন্তু অলরাউন্ডার ছিলাম। মনে মনে কনফিউজড ছিলাম কি নিলে ভালো হবে ব্যাটিং নাকি বোলিং....?
দেরী না করে ব্যাটিং এ টিকমার দিয়ে দিলাম।
এবার একে একে সব কিছু পুরণ করলাম। সব কিছু পুরণ করে দেওয়ার সময় বলে আপনার ছবি লাগবে ৩কপি পাসপোর্ট সাইজ।
লোকটার কথা শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেলো একে তো পকেটে টাকা ছিলো।
কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না!পরে বুদ্ধি আসলো সুচয়ন ভাইয়ার দোকান থেকে আম্মুর নাম করে ছবি নিয়ে নিবো।
মহুয়া ডিজিটাল স্টুডিও তে আমার আগের ছবি ছিলো। সেখানে গিয়ে ভাইয়াকে বলে ছবি নিলাম ৪কপি, ৩কপি দেওয়া হয়না। যাওয়ার সময় বললাম ভাইয়া টাকা আম্মু দিবে বলছে,ভাইয়া আর কিছু বললো নাহ।
ছবি গুলা নিয়ে ছলে গেলাম আভার মাদ্রাসায় ৩কপি ছবি নিলাম আর ১কপি পাঞ্জাবির পকেটে রাখলাম।
লোকটাকে দিয়ে দিলাম তিনি ছবিটাকে ফর্মের উপরের অংশে ফিন মেরে রেখে দিলেন টেবিলে।
বললো সময় মতো আপনাকে মেসেজের মাধ্যমে জানানো হবে। আমি আচ্ছাহ বলে ছলে গেলাম ২য়তলা মানে আমাদের ক্লাসের দিকে দেখলাম স্যারের ঘন্টা শেষ। সবাই ব্যাগ নিয়ে ছলে জাচ্ছে ক্লাস্মেটরা আমাকে বলতে লাগলো কোথায় ছিলি আর পাঞ্জাবি এটা কোথায় পাইলি আভার..?
আমি ঠাট্টা করে বললাম বাড়িতে গেছিলাম কিছু খাইতে।
পরে চলে আসলাম বাড়িতে, তো মেসেজ আসার অপেক্ষা করচিলাম। তো কিছুদিন পর মেসেজ আসলো
Congratulations!
Your upazila-based selection will begin at Chattogram MA Aziz Stadium at 8.00 AM on 22 Septamber 2019
Type START CR sent 16231
Thanks By-PKCSBD
এটা শুনে আর যাওয়ার ইচ্ছে হচ্ছিলো নাহ। আমি ভাবছিলাম মিরস্বরাই স্টেডিয়ামে selection করা হবে।
তো পরে শুনলাম আমার বন্ধু বাবুও ফর্ম নিছে। সে নাকি যাবে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে। এটা শুনে মনে একটু বল আসলো। আমি ট্যানশনে ছিলাম গাড়ি ভাড়া নিয়ে! আম্মু দিবেনা এত টাকা। বাবুর সাথে না জাওয়ার ভান ধরলাম, একসময় বাবু বললো আসা যাওয়ার ভাড়া আমিই দিবো ছল।
তো দুজনে সব কিছু ঠিক করে পেললাম কখন কি করবো। এবার আরেক জামেলায় পড়লাম pkcbd পেইজে পোস্ট দিছে আসার সময় টাউজার আর ক্যাচ পড়ে আসতে। ক্যাচ তো ছিলো কিন্তু টাউজার ছিলো নাহ,কারণ আমি টাউজার পড়তাম না আমার শরিরটা একটু মোটা ছিলো তাই।
কি করবো কি করবো! বুদ্ধি ছলে আসলো মোটু পাতলু কার্টুনের পাতলুর মতো উমায়ের ভাইয়ের কাছে আছে টাউজার।
উমায়ের ভাই আমার খুব ক্লোজ ছিলো ভালো খারাপ সবকিছু তার কাছে শেয়ার করতাম।
কিন্তু উমায়ের ভাই আমার বিপদের সময় সাহায্য করেনি,বললো না টাউজার দিতে পারবো নাহ আমার কাছে একটাই আছে। আমিও আর বেশি জোর করলাম নাহ। শেষমেশ নয়ন থেকে একটা নিলাম টাউজার।
এবার ২২তারিখ যাওয়ার দিন আম্মুকে আগেই বলে রেখেছিলাম আম্মু রাজি ছিলো। তাই নাস্তার জন্য কিছু টাকাও নিলাম। ভোর ৫টা বাজে উঠে গেলাম সেইদিন ফজরের নামাজও পড়লাম। নামাজ পড়ে এসে দেখি আম্মু আমার জন্য রুটি আর বাজি বানাই রাখছে, এটা দেখে আম্মুর প্রতি আরো মায়া বেড়ে গেলো। দেরি না করে খেতে লাগলাম খাওয়া শেষ। টাউজারটা অনেক চিপাচাপা ছিলো কষ্ট করে পড়ে নিলাম এর মধ্যেই বাবুর কল ছলে আসলো।
বাবু: আরমান! কই তুই..? উঠছোস ঘুম থেকে...?
আমি: আরে আমি র্যাডি হয়ে আছি তুই কই...?
বাবু: এইতো আমিও র্যাডি আস্তেছি...
আমি: হুম..তারাতারি আয়।
বাবু আসতে আসতে আমি পুরাপুরি র্যাডি হয়ে নিলাম। আম্মুকে বললাম আচ্চাহ আম্মু আমি যাচ্চি দোয়া কইরেন।
বাবু... ডাক দিলো আরমান! কইরে?
আমি...এইতো আসতেছি।
বাহির হয়ে দেখতেছি বাবুর কাধে একটা স্কুল ব্যাগ আর পায়ে ক্যাচ, পরনে টাউজার গায়ে আর্সেনালের জার্সি ভালোই লাগছে । অমনে হাটবো ওইসময় আম্মু বললো আরমান মোবাইল ফোন সাবধানে রাখিস। উত্তরে বললাম সমস্যা নেই সামনের পকেটে রাখছি।
তো রওনা দিলাম বাসের উদ্দেশ্যে। ব্রিজের গোড়ায় দাঁড়িয়ে আছি ২০ মিনিটের বেশি বাস পাচ্ছিনা। পাইছিলাম choice ছিলো তাই দাড়া করাই নাই। পরে আর সময় অপছয় না করে choice উঠে গেলাম ৮০ টাকা ভাডায়,কারণ ৮ টার আগে পোছাইতে হবে। বাস ঊঠে দেখি আরো অনেকেই আছে আমাদের মতো এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে যাচ্চে খেলার selection এর জন্য।
তো বাস থেকে এঁকে খান নামলাম ওখান থেকে আভার ৮ নাম্বার বাসে করে লালখান বাজার নেমে হাটা শুরু করলাম কিছুক্ষন হাটার পর এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের সামনে পোছাইলাম। দেখলাম পোলাপাইন সবাই আমাদের মতো আসছে। এভার সবাইকে বাহির করে লাইন ধরাইলো টিকেট কেটে প্রবেশ করা লাগবে। লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় ফারুকিয়া মাদ্রাসার বন্ধু নিরবের সাথে দেখা হইলো। ও ছিলো ফাস্ট বোলার, এবার সে ওই লাইন থেকে সরাসরি আমার লাইনে চলে আসলো আমার সামনে। আমাদের লাইনের পিছনের দিকে ছিলো হোটেল রেডিসন ব্লু তখন বাংলাদেশ - আফগানিস্তান খেলা ছলছিলো।
একের পর এক জাতিয় দলের ক্রিকেটাররা বাহির হচ্ছিলো সবাইকে দেখতে পেলাম। আভার কেও কেও লাইন থেকে ডাকছিলো আফগান প্লেয়ারদের।
এর মধ্যে লাইন প্রায় শেষের দিকে ২০ টাকা দিয়ে টিকেট নিয়ে ডুকলাম নিরব আর বাবু সহ।
দেখি স্টেডিয়ামের পাশে একটা বালুর মাঠ ছিলো ওখানে পোস্টারে লেখা আচে বড় বড় করে category C মানে যারা কলেজে ঊঠছে তারা।
ছলে গেলাম category C তে। আভার ওখানে দুইটা অপশন ছিলো বোলিং /ব্যাটিং।
বাবু ছিলো বোলিংয়ে ছলে গেলো অন্য লাইনে নিরবও বোলিং সেও ছলে গেলো বাবুর লাইন টায়।
৪৫ মিনিটের মতো দাঁড়িয়ে আছি কারো খোজ খবর নেই। এবার যে যার মতো লাইন ভেংগে ঘুরাঘুরি শুরু করলো কারণ সেখানে অনেক রোদ ছিলো।
আমি, বাবু আর নিরবও হাটতে লাগলাম পানি খাওয়ার উদ্দেশ্যে গেলাম শরবত ওয়ালা মামার দোকানে ৩ গ্লাস নিলাম লেবুর শরবত ৫ টাকা করে। ওদের খাওয়া শেষ করে আমি আরো ১গ্লাস নিলাম।
এই করে করে সময় অনেক গেলো দেখলাম ছোট থেকে শুরু করছে। আর আমরা হলাম category C মানে সবার বড় এককথায় সবার পরে আমাদের।
এর মধ্যে উমায়ের ভাইয়ের কল আসলো।
উমায়ের ভাই: কোথায় তুই...?
আমি: এইতো স্টেয়াডিয়ামে।
উমায়ের ভাই: আমি আশে পাশেই আছি আস্তেছি..?
আমি: আসেন।
কিছুক্ষণ পর উমায়ের ভাই আসলো, আমি আর বাবু গেলাম দোকান থেকে মিরিন্ডা আর কেক নিলো তিনজনেই খাইলাম। তখন নিরব তার কলেজের বন্ধু নিয়ে বিজি ছিলো তাই আর ডাকি নাই।
উমায়ের ভাই বলল...আমার কিছু কাজ আচে ছলি জাচ্চি জাওয়ার সময় কল দিছ।
আমরা বললাম... আচ্চাহ।
৩ঘন্টা পর আমাদের সময় আসলো লাইন ধরে সবাই selection এর জায়গায় গেলাম। বাবু, নিরব একপাশে আর আমি অন্যপাশে কোচ ছিলো অনেক গরম মেজাজের আভার ভালোও। ২জনকে তো ব্যাটিং স্টাইল দেখে নিয়ে নিছিলো, আমি ব্যাটিং নিয়ে দাড়াইলাম কোচ বলল তোমার পরিক্ষা দিতে হবে। তো আর দেরী কিসের মাথায় হেলমেট, গ্লাবস,পেড আরো কোমরের নিছে কত কিছু লাগালো। ছলে গেলাম ব্যাটিংস পরিক্ষা দিতে, ওরা বোলিং করচে selected হওয়ার জন্য আমরাও ব্যাটিং করছি select হওয়ার জন্য।
কাঠের বল কাঠের ব্যাট। বোলার বল করছিলো খুব জোরে।
প্রথম বল > ব্যাটের কানায় লেগে পিছে চলে গেলো।
দ্বিতীয় বল> ব্যাটে লাগেই নাই।
তৃতীয় বল> সর্ট দিলাম ব্যাটে ঠাস করে আওয়াজ করলো, ভাবলাম ভেংগে গেচে হয়তো, ওখানে ব্যাট দেখার টাইমও ছিলো না বোলার শুধু বলছে করচে।
চতুর্থ বল> ৪ নাম্বার বল ও ব্যাটে লাগাইছি।
পঞ্চম বল> বোলার বল গতি দেওয়ার কারণে বল টা আমার চোখ বরাবর আসতে লাগলো কোনোমতে ব্যাট লাগিয়ে সামাল দিলাম।
এবার কোচ ডাকদিলো,
কোচ: এগুলা খুল তুই বাদ! (ভয় দেখিয়ে)
আমি: জ্বি স্যার।(মন খারাপ করে)
কোচ: আরে বেটা তোর নাম লেখে আয় প্রথম selection এ selected...
আমি তারাতারি করে এগুলা খুলে পকেট থেকে ফর্ম বের করে দিলাম তাদের তারা নাম্বার আর সিরিয়াল নং লিখে রেখে দিলো।
আমি অনেক খুশি, এবার বাবু কে খুজতে লাগলাম।
দেখলাম নিরব এখনো আচে কিন্তু বাবু নেই।
হঠাৎ করে পিছন থেকে ডাক দিলো আরমান! (নরম স্বরে)
আমি বললাম বাবু আমি select হয়ে গেছি।
খবর টা শুনে বাবু খুশি হলো না।
বলল ৪ বল করছি ঠিক ভাবে ৫ বলের সময় হোয়াইট দিলাম আর বাদ দিয়ে দিছে।
নিরব টিকে গেচে।
নিরবের আরো প্রেকটিস নিচ্ছে তাই আমরা বাড়ির দিকে রওনা দিলাম।
উমায়ের ভাইকে কল দিলাম বলল ৫মিনিট লাগবে আস্তেছি। কিছুক্ষণ পর আসলো এসে সবাই ঘুরাঘুরি করলাম CRB তে।
তারপর টাইগার পাস থেকে বাসে করে একে খান ওখান থেকে একদম পেনাপুনি ব্রিজের সামনে, আসা জাওয়ার ভাড়া দিছে বাবুয়ে কারণ তার সাথে আগে থেকে চুক্তি হয়ে গেচে। আমি শুধু নাস্তা খরচা দিছি।
তো পরে pkcbd পেইজ থেকে জানলাম আগামি October মাসের ২৮ তারিখে দ্বিতীয় selection। ভাইয়া আর আব্বুকে জানালাম খবরটা তারা বলল যত টাকা লাগে দিবো তুই ট্যানশন করিস নাহ।
তো তার কয়দিন পর গ্রামে খেলছিলাম তখন একজন এসে বলল তুই জাতিয় টিম খেলবি এই সেই বলতে লাগলো।
আমি বললাম জাতিয় টিম না কাকা ক্ষুদে ক্রিকেটার।
উত্তরে বললো তুই পারবি না, তুই মোটা, তুই দোড়াইতে পারবি নাহ,তুই,,,,,,,,,,,,, টিকবি। আন্ডার লাইন্টায় খারাপ ভাষা ছিলো লিখি নাই। লোকটা আমার থেকে দ্বিগুন বয়সি।
এগুলা শুনার পর আমার ক্রিকেটের প্রতি আস্থা টা কমে গেলো, আর মন ছাইছিলো না যে যাই,আমি আভার ব্যাটিং করি, আভার খেলি ক্রিকেট। নিজের প্রতি খুব রাগ হচ্ছিলো কেন গেলাম না গেলে এগুলা শুনতে হতো না।
ঘরে গিয়ে আম্মু বললাম আম্মু আমি জাবোনাহ আর। আম্মু অনেক রাগারাগি চেঁচামেচি করলো আমি মাথা নিচু করে সব সহ্য করলাম কিছুই বলার ছিলোনা।
২৮ তারিখের মেসেজ
Congratulations!
Your city-based selection will begin at Chattogram MA Aziz Stadium at 8.00 AM on 28 October 2019
Type START CR sent 16231
Thanks By-PKCSBD
আর যাওয়া হলো না আমার।
ভেংগে গেলো সব সপ্ন,জিতে গেলো গ্রামের হেটার্সরা।
বানানে যদি ভুল থাকে ক্ষমা করে দিবেন।
সেইদিন টা ছিলো বোধহয় শনিবার। আমি তখন ক্লাসে ছিলাম, ক্লাসে তো হঠাৎ দুজন লোক আসলো আমি ছিলাম ৩নাম্বার টেবিলের মাঝখানটায়, দেখলাম তাদের হাতে অনেক কাগজপত্র, তো তারা সোজাসুজি ক্লাসে ছলে আসলো আর বলতে লাগলো আপনাদের মাঝে যারা ক্রিকেট খেলতে আগ্রহী তারা এই ফর্মটা নিতে পারেন। শুনার সাথে সাথে টেবিল থেকে দাঁড়িয়ে গেলাম আর মন দিয়ে শুনতে লাগলাম সবকিছু।
পরে বুঝলাম তারা pkcbd ক্ষুদে ক্রিকেটার নামের
একটা সংস্থা আছে ওখান থেকেই আসছে। এই বলে তারা ছলে গেলো।
আচ্ছা কথা বলতে বলতে পরিচয়টাই দেওয়া হলো নাহ। আমার নাম মোহাম্মদ আরমান হোসাইন। আভার তার নানু খুশি করে একটা নাম দিয়েছেন রিয়াজ,সেটা জনপ্রিয়তা না পাওয়ায় কেও ডাকেনাহ।
আর আমি এবার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। বাবার অনেক শখ ছিলো মাদ্রাসায় পড়ার।
তাই মিরস্বরাই লতিফীয়া কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি হলাম।
তো ক্লাস ছিলো জাহেদ স্যারের, ক্লাস শেষ করার আগে পানি খাওয়ার বাহানা করে বের হলাম। ২য়তলা থেকে তাড়াহুড়ো করে নিছে নামতেই দেখি লোক দুটোর মধ্যে একজন ছেয়ার ও টেবিল নিয়ে বসে আছে। টেবিলের উপর ক্ষুদে ক্রিকেটারের ফর্ম গুলা। আর দেরী না করে গেলাম ওখানে, গিয়ে জিজ্ঞাস করলাম প্রথমে কি করতে হবে,
লোকটি বললো _ আপনাকে প্রথমে ১০০ টাকা দিয়ে এটি কিনে নিতে হবে..!
লোকটির কথা শুনে না বুঝার ভান করে পাঞ্জাবির পকেটে হাত দিলাম। বের করে দেখি খুচরো ১৫ টাকার মতো আছে।
আম্মু প্রতিদিন ক্লাসে আসার জন্য ২০ টাকার বেশি দেয়না। ৫টাকা গাড়ি ভাড়া দিয়ে আর গুলো বাচিয়ে রেখে ছিলাম।আভার মনে মনে ভাবতে লাগলাম ১০০ টাকা মাদ্রাসার কেরানী নাসির ভাইয়া থেকে নিবো। আর উনি আমাদের গ্রামের ভূঞা সাহেব তাই আর ভয়ে ভয়ে নেওয়া হলো না।
তো কিছু না করার আগে ঝুমঝুম করে বৃষ্টি নামলো। এবার তো আর কিছু করার ছিলো নাহ। আর আমার অনেক শখ ছিলো ক্রিকেটার হবার, ক্রিকেট খেলা আমার প্রিয় খেলা ছিলো।
তাই সব কিছু ভুলে বৃষ্টির মাঝে দৌড় দিলাম। সেইদিন আর ওভার ব্রিজ দিয়ে রাস্তা পার হলাম না। দেওয়ালের উপর দিয়ে লাফ মেরে পার হলাম।
এক দৌড়ে লেগুনাতে উঠলাম বৃষ্টিতে পাঞ্জাবি বিজে গেছে। তো আভার ৫ টাকা ভাড়া দিয়ে পেনাপুনি ব্রিজে নামলাম। এভার আর বৃষ্টিতে বেজা ছাড়া আর কোনো উপায় নেয়। বৃষ্টিতে ভিজতেছি আর দৌড়াইতেছি অনেক খুশি ছিলাম তাই কখন যে ঘরের সামনে ছলে আসলাম মনেই ছিলনা।
তো বেজা অবস্থায় ঘরে ডুকলাম, আম্মু আম্মু করে ডাকলাম, দেখি আম্মু রান্না করতেছে।
আমি : আম্মু আমাকে ১০০ টা টাকা দেন অনেক দরকার।
আম্মু: কেন! কি করবি....?
আমি : আরেহ প্রেকটিকেল খাতা কেনা লাগবে তাই।
আম্মু: বছরে কয়বার লাগে তোর এই খাতা!
আম্মু লেখাপড়া জানেনা, তাই সহজেই বোকা বানিয়ে মানিয়ে নিলাম।
আলমারি থেকে ১০০ টাকা বাহির করলো আম্মু।
তারাতারি করে আম্মুর হাত থেকে টাকা নিয়ে আমার রুমে আসলাম বেজা পাঞ্জাবিটা পাল্টাইলাম,কিন্তু পায়জামা পাল্টাই নাই দেরী হয়ে যাবে তাই।
এইবার বৃষ্টি একটু কমার দিকে, ছাতা নিয়ে ছুটলাম মাদ্রাসার দিকে।
আভার পেনাপুনি ব্রিজ থেকে ৫ টাকা ভাড়া দিয়ে মিরস্বরাই গিয়ে পোছাইলাম।
সোজা গেলাম মাদ্রাসায় দেখলাম লোকটা এখনো বসে আছে। আর উপরের দিকে তাকিয়ে দেখি ছগির আমিন হুজুরের ক্লাস ছলছে। লোকটার কাছে গিয়ে বড় করে একটা নিশ্বাস নিলাম।
১০০ টাকা দিলাম তাকে। ফর্মটা হাতে নিয়ে অনেক খুশি হলাম, এবার ফর্ম পুরণের কাজ।
ফর্মে লেখা ছিলো... উইকেটকিপার/ব্যাটিং/বোলিং ৩টার মধ্যে যে কোনো একটা। আমি কিন্তু অলরাউন্ডার ছিলাম। মনে মনে কনফিউজড ছিলাম কি নিলে ভালো হবে ব্যাটিং নাকি বোলিং....?
দেরী না করে ব্যাটিং এ টিকমার দিয়ে দিলাম।
এবার একে একে সব কিছু পুরণ করলাম। সব কিছু পুরণ করে দেওয়ার সময় বলে আপনার ছবি লাগবে ৩কপি পাসপোর্ট সাইজ।
লোকটার কথা শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেলো একে তো পকেটে টাকা ছিলো।
কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না!পরে বুদ্ধি আসলো সুচয়ন ভাইয়ার দোকান থেকে আম্মুর নাম করে ছবি নিয়ে নিবো।
মহুয়া ডিজিটাল স্টুডিও তে আমার আগের ছবি ছিলো। সেখানে গিয়ে ভাইয়াকে বলে ছবি নিলাম ৪কপি, ৩কপি দেওয়া হয়না। যাওয়ার সময় বললাম ভাইয়া টাকা আম্মু দিবে বলছে,ভাইয়া আর কিছু বললো নাহ।
ছবি গুলা নিয়ে ছলে গেলাম আভার মাদ্রাসায় ৩কপি ছবি নিলাম আর ১কপি পাঞ্জাবির পকেটে রাখলাম।
লোকটাকে দিয়ে দিলাম তিনি ছবিটাকে ফর্মের উপরের অংশে ফিন মেরে রেখে দিলেন টেবিলে।
বললো সময় মতো আপনাকে মেসেজের মাধ্যমে জানানো হবে। আমি আচ্ছাহ বলে ছলে গেলাম ২য়তলা মানে আমাদের ক্লাসের দিকে দেখলাম স্যারের ঘন্টা শেষ। সবাই ব্যাগ নিয়ে ছলে জাচ্ছে ক্লাস্মেটরা আমাকে বলতে লাগলো কোথায় ছিলি আর পাঞ্জাবি এটা কোথায় পাইলি আভার..?
আমি ঠাট্টা করে বললাম বাড়িতে গেছিলাম কিছু খাইতে।
পরে চলে আসলাম বাড়িতে, তো মেসেজ আসার অপেক্ষা করচিলাম। তো কিছুদিন পর মেসেজ আসলো
Congratulations!
Your upazila-based selection will begin at Chattogram MA Aziz Stadium at 8.00 AM on 22 Septamber 2019
Type START CR sent 16231
Thanks By-PKCSBD
এটা শুনে আর যাওয়ার ইচ্ছে হচ্ছিলো নাহ। আমি ভাবছিলাম মিরস্বরাই স্টেডিয়ামে selection করা হবে।
তো পরে শুনলাম আমার বন্ধু বাবুও ফর্ম নিছে। সে নাকি যাবে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে। এটা শুনে মনে একটু বল আসলো। আমি ট্যানশনে ছিলাম গাড়ি ভাড়া নিয়ে! আম্মু দিবেনা এত টাকা। বাবুর সাথে না জাওয়ার ভান ধরলাম, একসময় বাবু বললো আসা যাওয়ার ভাড়া আমিই দিবো ছল।
তো দুজনে সব কিছু ঠিক করে পেললাম কখন কি করবো। এবার আরেক জামেলায় পড়লাম pkcbd পেইজে পোস্ট দিছে আসার সময় টাউজার আর ক্যাচ পড়ে আসতে। ক্যাচ তো ছিলো কিন্তু টাউজার ছিলো নাহ,কারণ আমি টাউজার পড়তাম না আমার শরিরটা একটু মোটা ছিলো তাই।
কি করবো কি করবো! বুদ্ধি ছলে আসলো মোটু পাতলু কার্টুনের পাতলুর মতো উমায়ের ভাইয়ের কাছে আছে টাউজার।
উমায়ের ভাই আমার খুব ক্লোজ ছিলো ভালো খারাপ সবকিছু তার কাছে শেয়ার করতাম।
কিন্তু উমায়ের ভাই আমার বিপদের সময় সাহায্য করেনি,বললো না টাউজার দিতে পারবো নাহ আমার কাছে একটাই আছে। আমিও আর বেশি জোর করলাম নাহ। শেষমেশ নয়ন থেকে একটা নিলাম টাউজার।
এবার ২২তারিখ যাওয়ার দিন আম্মুকে আগেই বলে রেখেছিলাম আম্মু রাজি ছিলো। তাই নাস্তার জন্য কিছু টাকাও নিলাম। ভোর ৫টা বাজে উঠে গেলাম সেইদিন ফজরের নামাজও পড়লাম। নামাজ পড়ে এসে দেখি আম্মু আমার জন্য রুটি আর বাজি বানাই রাখছে, এটা দেখে আম্মুর প্রতি আরো মায়া বেড়ে গেলো। দেরি না করে খেতে লাগলাম খাওয়া শেষ। টাউজারটা অনেক চিপাচাপা ছিলো কষ্ট করে পড়ে নিলাম এর মধ্যেই বাবুর কল ছলে আসলো।
বাবু: আরমান! কই তুই..? উঠছোস ঘুম থেকে...?
আমি: আরে আমি র্যাডি হয়ে আছি তুই কই...?
বাবু: এইতো আমিও র্যাডি আস্তেছি...
আমি: হুম..তারাতারি আয়।
বাবু আসতে আসতে আমি পুরাপুরি র্যাডি হয়ে নিলাম। আম্মুকে বললাম আচ্চাহ আম্মু আমি যাচ্চি দোয়া কইরেন।
বাবু... ডাক দিলো আরমান! কইরে?
আমি...এইতো আসতেছি।
বাহির হয়ে দেখতেছি বাবুর কাধে একটা স্কুল ব্যাগ আর পায়ে ক্যাচ, পরনে টাউজার গায়ে আর্সেনালের জার্সি ভালোই লাগছে । অমনে হাটবো ওইসময় আম্মু বললো আরমান মোবাইল ফোন সাবধানে রাখিস। উত্তরে বললাম সমস্যা নেই সামনের পকেটে রাখছি।
তো রওনা দিলাম বাসের উদ্দেশ্যে। ব্রিজের গোড়ায় দাঁড়িয়ে আছি ২০ মিনিটের বেশি বাস পাচ্ছিনা। পাইছিলাম choice ছিলো তাই দাড়া করাই নাই। পরে আর সময় অপছয় না করে choice উঠে গেলাম ৮০ টাকা ভাডায়,কারণ ৮ টার আগে পোছাইতে হবে। বাস ঊঠে দেখি আরো অনেকেই আছে আমাদের মতো এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে যাচ্চে খেলার selection এর জন্য।
তো বাস থেকে এঁকে খান নামলাম ওখান থেকে আভার ৮ নাম্বার বাসে করে লালখান বাজার নেমে হাটা শুরু করলাম কিছুক্ষন হাটার পর এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের সামনে পোছাইলাম। দেখলাম পোলাপাইন সবাই আমাদের মতো আসছে। এভার সবাইকে বাহির করে লাইন ধরাইলো টিকেট কেটে প্রবেশ করা লাগবে। লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় ফারুকিয়া মাদ্রাসার বন্ধু নিরবের সাথে দেখা হইলো। ও ছিলো ফাস্ট বোলার, এবার সে ওই লাইন থেকে সরাসরি আমার লাইনে চলে আসলো আমার সামনে। আমাদের লাইনের পিছনের দিকে ছিলো হোটেল রেডিসন ব্লু তখন বাংলাদেশ - আফগানিস্তান খেলা ছলছিলো।
একের পর এক জাতিয় দলের ক্রিকেটাররা বাহির হচ্ছিলো সবাইকে দেখতে পেলাম। আভার কেও কেও লাইন থেকে ডাকছিলো আফগান প্লেয়ারদের।
এর মধ্যে লাইন প্রায় শেষের দিকে ২০ টাকা দিয়ে টিকেট নিয়ে ডুকলাম নিরব আর বাবু সহ।
দেখি স্টেডিয়ামের পাশে একটা বালুর মাঠ ছিলো ওখানে পোস্টারে লেখা আচে বড় বড় করে category C মানে যারা কলেজে ঊঠছে তারা।
ছলে গেলাম category C তে। আভার ওখানে দুইটা অপশন ছিলো বোলিং /ব্যাটিং।
বাবু ছিলো বোলিংয়ে ছলে গেলো অন্য লাইনে নিরবও বোলিং সেও ছলে গেলো বাবুর লাইন টায়।
৪৫ মিনিটের মতো দাঁড়িয়ে আছি কারো খোজ খবর নেই। এবার যে যার মতো লাইন ভেংগে ঘুরাঘুরি শুরু করলো কারণ সেখানে অনেক রোদ ছিলো।
আমি, বাবু আর নিরবও হাটতে লাগলাম পানি খাওয়ার উদ্দেশ্যে গেলাম শরবত ওয়ালা মামার দোকানে ৩ গ্লাস নিলাম লেবুর শরবত ৫ টাকা করে। ওদের খাওয়া শেষ করে আমি আরো ১গ্লাস নিলাম।
এই করে করে সময় অনেক গেলো দেখলাম ছোট থেকে শুরু করছে। আর আমরা হলাম category C মানে সবার বড় এককথায় সবার পরে আমাদের।
এর মধ্যে উমায়ের ভাইয়ের কল আসলো।
উমায়ের ভাই: কোথায় তুই...?
আমি: এইতো স্টেয়াডিয়ামে।
উমায়ের ভাই: আমি আশে পাশেই আছি আস্তেছি..?
আমি: আসেন।
কিছুক্ষণ পর উমায়ের ভাই আসলো, আমি আর বাবু গেলাম দোকান থেকে মিরিন্ডা আর কেক নিলো তিনজনেই খাইলাম। তখন নিরব তার কলেজের বন্ধু নিয়ে বিজি ছিলো তাই আর ডাকি নাই।
উমায়ের ভাই বলল...আমার কিছু কাজ আচে ছলি জাচ্চি জাওয়ার সময় কল দিছ।
আমরা বললাম... আচ্চাহ।
৩ঘন্টা পর আমাদের সময় আসলো লাইন ধরে সবাই selection এর জায়গায় গেলাম। বাবু, নিরব একপাশে আর আমি অন্যপাশে কোচ ছিলো অনেক গরম মেজাজের আভার ভালোও। ২জনকে তো ব্যাটিং স্টাইল দেখে নিয়ে নিছিলো, আমি ব্যাটিং নিয়ে দাড়াইলাম কোচ বলল তোমার পরিক্ষা দিতে হবে। তো আর দেরী কিসের মাথায় হেলমেট, গ্লাবস,পেড আরো কোমরের নিছে কত কিছু লাগালো। ছলে গেলাম ব্যাটিংস পরিক্ষা দিতে, ওরা বোলিং করচে selected হওয়ার জন্য আমরাও ব্যাটিং করছি select হওয়ার জন্য।
কাঠের বল কাঠের ব্যাট। বোলার বল করছিলো খুব জোরে।
প্রথম বল > ব্যাটের কানায় লেগে পিছে চলে গেলো।
দ্বিতীয় বল> ব্যাটে লাগেই নাই।
তৃতীয় বল> সর্ট দিলাম ব্যাটে ঠাস করে আওয়াজ করলো, ভাবলাম ভেংগে গেচে হয়তো, ওখানে ব্যাট দেখার টাইমও ছিলো না বোলার শুধু বলছে করচে।
চতুর্থ বল> ৪ নাম্বার বল ও ব্যাটে লাগাইছি।
পঞ্চম বল> বোলার বল গতি দেওয়ার কারণে বল টা আমার চোখ বরাবর আসতে লাগলো কোনোমতে ব্যাট লাগিয়ে সামাল দিলাম।
এবার কোচ ডাকদিলো,
কোচ: এগুলা খুল তুই বাদ! (ভয় দেখিয়ে)
আমি: জ্বি স্যার।(মন খারাপ করে)
কোচ: আরে বেটা তোর নাম লেখে আয় প্রথম selection এ selected...
আমি তারাতারি করে এগুলা খুলে পকেট থেকে ফর্ম বের করে দিলাম তাদের তারা নাম্বার আর সিরিয়াল নং লিখে রেখে দিলো।
আমি অনেক খুশি, এবার বাবু কে খুজতে লাগলাম।
দেখলাম নিরব এখনো আচে কিন্তু বাবু নেই।
হঠাৎ করে পিছন থেকে ডাক দিলো আরমান! (নরম স্বরে)
আমি বললাম বাবু আমি select হয়ে গেছি।
খবর টা শুনে বাবু খুশি হলো না।
বলল ৪ বল করছি ঠিক ভাবে ৫ বলের সময় হোয়াইট দিলাম আর বাদ দিয়ে দিছে।
নিরব টিকে গেচে।
নিরবের আরো প্রেকটিস নিচ্ছে তাই আমরা বাড়ির দিকে রওনা দিলাম।
উমায়ের ভাইকে কল দিলাম বলল ৫মিনিট লাগবে আস্তেছি। কিছুক্ষণ পর আসলো এসে সবাই ঘুরাঘুরি করলাম CRB তে।
তারপর টাইগার পাস থেকে বাসে করে একে খান ওখান থেকে একদম পেনাপুনি ব্রিজের সামনে, আসা জাওয়ার ভাড়া দিছে বাবুয়ে কারণ তার সাথে আগে থেকে চুক্তি হয়ে গেচে। আমি শুধু নাস্তা খরচা দিছি।
তো পরে pkcbd পেইজ থেকে জানলাম আগামি October মাসের ২৮ তারিখে দ্বিতীয় selection। ভাইয়া আর আব্বুকে জানালাম খবরটা তারা বলল যত টাকা লাগে দিবো তুই ট্যানশন করিস নাহ।
তো তার কয়দিন পর গ্রামে খেলছিলাম তখন একজন এসে বলল তুই জাতিয় টিম খেলবি এই সেই বলতে লাগলো।
আমি বললাম জাতিয় টিম না কাকা ক্ষুদে ক্রিকেটার।
উত্তরে বললো তুই পারবি না, তুই মোটা, তুই দোড়াইতে পারবি নাহ,তুই,,,,,,,,,,,,, টিকবি। আন্ডার লাইন্টায় খারাপ ভাষা ছিলো লিখি নাই। লোকটা আমার থেকে দ্বিগুন বয়সি।
এগুলা শুনার পর আমার ক্রিকেটের প্রতি আস্থা টা কমে গেলো, আর মন ছাইছিলো না যে যাই,আমি আভার ব্যাটিং করি, আভার খেলি ক্রিকেট। নিজের প্রতি খুব রাগ হচ্ছিলো কেন গেলাম না গেলে এগুলা শুনতে হতো না।
ঘরে গিয়ে আম্মু বললাম আম্মু আমি জাবোনাহ আর। আম্মু অনেক রাগারাগি চেঁচামেচি করলো আমি মাথা নিচু করে সব সহ্য করলাম কিছুই বলার ছিলোনা।
২৮ তারিখের মেসেজ
Congratulations!
Your city-based selection will begin at Chattogram MA Aziz Stadium at 8.00 AM on 28 October 2019
Type START CR sent 16231
Thanks By-PKCSBD
আর যাওয়া হলো না আমার।
ভেংগে গেলো সব সপ্ন,জিতে গেলো গ্রামের হেটার্সরা।
No comments:
Post a Comment